৩য় দিনের ধর্মঘটে বিপাকে কৃষক ও কাঁচামাল ব্যবসায়ীরা

৩য় দিনের ধর্মঘটে চরম বিপাকে পড়েছে কাচাঁমাল ব্যবসায়ী, চাষি ও পরিবহনের সাথে সংশ্লিষ্টরা। পন্যবাহী কোন পরিবহন ছেড়ে না যাওয়ায় কাঁচামাল নিয়ে বিপাকে তারা। গতকাল সোমবার খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় পরিবহন র্ধঘটের পত্যাহারের কথা শুনে অনেক চাষি তাদের উৎপাদিত পন্য কাঁচা বাজারে নিয়ে আসেন। কিন্তু বাজার ক্রেতা শুন্য থাকায় এসব পন্য বিক্রি করতে পারছেন না তারা।
শীতের পর এখন বাজারে আসতে শুরু করেছে পিঁয়াজ, রসুন, লাউ, বেগুন, টমেটো, মিষ্টি কুমড়া, কলাসহ বিভিন্ন কাঁচা পন্য। এছাড়াও বীজ আলু এখন উত্তোলনের সময়। অনেকেই আলু তুলে জমিতেই ফেলে রেখেছেন। কিন্তু পরিবহন না থাকায় সেগুলো হিমাগারে পাঠাতে পারছেন না। আর কয়েক দিন দেরি হলে এ আলুগুলো বীজ হিসেবে সংরক্ষন করা যাবে না।
মেহেরপুর সদর উপজেলার বুড়িপোতা গ্রামের চাষি শরিফুল ইসলাম জানান, তিনি লাউ ও বেগুন নিয়ে বাজারে এসেছেন। কিন্তু বাজারে ক্রেতা না থাকয় সেগুলো বিক্রি করতে পারছেন না। যে পিঁয়াজ কয়েকদিন আগে বিক্রি হচ্ছিল ১০ থেকে ১১ টাকা কেজি দরে। সেই পিঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ৬ টাকা দরে। তাও আবার বাইরে থেকে ক্রেতা না আসায় সব পিঁয়াজ বিক্রি করতে পারছেন না। আলুর অবস্থা ও একই রকম। ১১ টাকা কেজি দরের আলু এখন বিক্রি হচ্ছে ৬ থেকে ৭ টাকা দরে।
মেহেরপুর শহরের স্টেডিয়াম পাড়ার চাষি হারুন-আর রশিদ ও ফৌজদারি পাড়ার ডাবলু জানান, তারা দুইজনে সাড়ে তিনশ বিঘা জমিতে বীজ আলুর আবাদ করেছেন। এখন আলুগুলো জমি থেকে তুলে হিমগারে পাঠানোর দরকার। অনেক জমির আলু উত্তোলন করেছেন। কিন্তু পরিবহন না চলার কারণে সেগুলো বাইরে পাঠাতে পারছেন না। আর কয়েকদিন এভাবে চলতে থাকলে আলুগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। আবার এ আলুগুলো পিছনে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ জন শ্রমিক কাজ করে। তারাও গত কয়েক দিন ধরে অলস বসে আসেন। কাজ করতে না পারলে তাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হবে।
মুজিবনগরের পিঁয়াজ চাষি, আসাদুল জানান, তিনি এবার ৫ বিঘা জমিতে পিঁয়াজের আবাদ করেছেন। এখন পিঁয়াজের ভরা মৌসূম। কিন্তু বাইরে থেকে ফড়িয়ারা না আসায় তারা পিঁয়াজ বিক্রি করতে পারছে না। সুখসাগর জাতের এ পিঁয়াজ জমিতে বেশি দিন রাখাও সম্ভব না। এমনিতেই ভারত থেকে পিঁয়াজ আসায় এবার লোকসানে পড়েছেন চাষিরা। ধর্মঘট অব্যাহত থাকলে সব পিঁয়াজ একসাথে উঠবে বাজারে। এতে মোটা অংকের লোকসানের মুখে পড়বেন চাষিরা।
তহবাজার বাজার ব্যসায়ী সমিতির সভাপতি আবু হানিফ জানান, এ সময়ে বিভিন্ন কাঁচা পন্য নিয়ে জেলা থেকে প্রতিদিন শতাধীক ট্রাক চলে যায় বাইরের জেলাতে। ৩ থেকে ৪ কোটি টাকার বেচাকেনা হয় বাজারে। কিন্তু ধর্মঘট অব্যহত থাকায় বাজারে বেচা কেনা বন্ধ। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন ব্যবসায়ী ও বাজারের শ্রমকিরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *