মেহেরপুরে গর্ভবতীকে ভর্তি না নেওয়ায় বারান্দায় সন্তান জন্ম।। নার্সের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন

মুজিবনগর নিউজ২৪.কম: মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ড থেকে এক প্রসূতিকে ক্লিনিকে যাওয়ার নাম করে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রসূতি বিভাগের ইনচার্জ রাহেলী মিনতি সরকার’র বিরুদ্ধে। এনিয়ে রোগীর স্বজনরা হাসপাতালে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং ওই নার্সের শাস্তির দাবি জানিয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চার সদস্যর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আগামী ৫ জুলাইয়ের (বুধবার) মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
রোগীর স্বজন ও হাসপাতালে থাকা অন্য রোগীর স্বজনরা জানান, মেহেরপুর সদর উপজেলার বামন পাড়ার সাইফুলের স্ত্রী রোজি খাতুনের প্রসব বেদনা শুরু হলে সোমবার ভোরে তাকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এসময় ওই ওয়ার্ডের দায়িত্বে ছিলেন মিনতি সাহা। সকাল ৮টার দিকে রোগীর প্রসব যন্ত্রনা বেড়ে গেলে রোগীর সাথে থাকে তার চাচি মোমেনা খাতুন নার্সসহ আয়াদের অনুরোধ করে ভালভাবে দেখার জন্য। এসময় মিনতি তাদের অনুরোধ উপেক্ষা করে আশেপাশের ক্লিনিকে যাওয়ার জন্য ওয়ার্ড থেকে বের করে দেয়। প্রসূতি রোজি খাতুন হাসপাতালের সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় তার প্রচন্ড প্রসব ব্যথা বেড়ে যায় এবং হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনে নেতিয়ে পড়ে। পরে পুনরায় অনুরোধ করা হলে অন্য অপর এক নার্সের সহায়তায় প্রসূতি ওয়ার্ডের লেবার রুমে নিয়ে বাচ্চা প্রসব করানো হলে ফুটফুটে একটি সন্তানের জন্ম নেয়। এসময় সাহায্যকারী নার্সকেও অপমান করে মিনতি। এ খবর রোগীর স্বজনরা জানতে পেরে হাসপাতালে ছুটে গিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে এবং নার্স মিনতির শাস্তির দাবি করে।
রোজি খাতুনের চাচি মোমেনা বেগম বলেন, ভোর ৫টার দিকে তার দেবরের মেয়ে রোজী খাতুনের প্রসব বেদনা শুরু হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করি। হাসপাতালে ভর্তি করার পর থেকে নার্সরা চিকিৎসা দেবার পরিবর্তে দুর্ব্যবহার করতে থাকে। তাদের বার বার চিকিৎসা দেবার কথা বলার পরও কোন চিকিৎসা না দিয়ে দুর্ব্যবহার শুরু করে। এক পর্যায়ে রোজির প্রসাব বেদনা উঠলে হাসপাতালের নার্স মিনতি আমাদের ক্লিনিকে যাবার কথা বলে বের করে দেয়।
মেহেরপুর পৌরসভার ১ নম্বর সংরক্ষিত ওয়াডের্র সাবেক মহিলা কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম বলেন, আমার সামনে তাদের বের করে দেওয়া হয়। এসময় আমিসহ কয়েক জন রোগী এর প্রতিবাদ করলে নার্সরা আমাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।
এদিকে, এ ঘটনার পর হাসপাতালে গিয়ে নার্স রাহেলী মিনতি সরকারকে পাওয়া যায়নি। রোগীর স্বজনরা জানান, ঘটনার পর থেকে মিনতি আত্মগোপনে রয়েছেন। পরে মোবাইল ফোনে তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. মিজানুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মৃণাল কান্তি মন্ডলকে প্রধান করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৫ জুলাই বুধবারের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *