ফাগুনের ফুলে আগুনে দাম!

লাল, হলুদ ও বাসন্তী রঙের শাড়ি। মাথায় গোলাপ, বেলি, গাঁদা জিপসি ফুলের টায়রা, খোঁপায় লাল টকটকে চন্দ্রমল্লিকা, বেণিতে গোঁজানো রজনীগন্ধা। বাহারি ফুলে সেজে গুজে তরুণীরা চলবে গ্রাম ও শহরের পথে। এরই মধ্যে বসন্ত আর ভালবাসা দিবস রাঙাতে বেশ প্রস্তুতি নিচ্ছেন তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সীরা। অন্যান্য অনুষঙ্গ কেনা শেষ হলেও বাকি রয়েছে উৎসবের অন্যতম অনুষঙ্গ ফুল। আর এ চাহিদা পূরুণে চলছে মেহেরপুরের ফুল ব্যবসায়ীদের ব্যাপক প্রস্তুতি। তারা ইতোমধ্যে ফুলের অর্ডার দিয়েছেন, সঙ্গে কি পরিমাণ ফুল বিক্রি করবেন তার লক্ষ্যও ঠিক করে ফেলেছেন।
তবে সুযোগ বুঝে ফুলের দাম বৃদ্ধি করেছেন ফুল বিক্রেতারা। বিক্রেতারা জানান, চাহিদা অনুযায়ি বাগান মালিকরা দাম বাড়িয়েছেন তাই একটু দাম বেশী।
সরেজমিনে দেখা যায়, চেরি, গাঁদা, জিপসি, বেলি, দেশি-বিদেশি গোলাপ, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধাসহ রং বেরঙের ফুলের সমারোহ টুস্টার ফুল মেলায়। ফুল বিক্রি বেড়েছে বিক্রেতাদের। যে গোলাপ বুধবার তিন টাকা ছিল তা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ টাকায়। এভাবে সব ফুলের দাম পহেলা ফাগুন ও ভালোবাসা দিবস কেন্দ্র করে বেড়ে যাচ্ছে। গেল বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশী মুল্য হাকছেন দোকানীরা।
মেহেরপুরের ফুল ব্যবসায়ী এস.আই, টুটুল জানান, বাগান মালিকদের কাছ থেকে এখন বেশি দামে ফুল কিনতে হচ্ছে, তাই ক্রেতাদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে গোলাপের দাম ছিল ৩ থেকে ৫ টাকা এখন বিক্রি করতে হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। ঠিক তেমনি জারবেরার দাম ছিল ২০ টাকা এখন ৩০ টাকা, অর্কিডের দাম ছিল ৩০ টাকা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০০ টাকায়, গ্লাডিওলাসের দাম ছিল ১০ টাকা এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকায়। এছাড়াও গাঁদা ও রজনীগন্ধার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দোকানীরা জানান, ফেব্রুয়ারিতে যেকোনো মাসের তুলনায় ভালো ফুল বিক্রি হয়। তাই ফুল চাষিরাই এ সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছে ফলে ফুলের দাম বেশী পড়বে। যে গোলাপ প্রতিটি বিক্রি হতো ৮ টাকা তা পহেলা ফাগুন ও ভালোবাসা দিবসে ৩০ টাকা, ২০ টাকার গাঁজরা ৪০ টাকা, গাঁদা ফুলের মালা ১৫ টাকার ফুল ৪০ টাকা। এ রকম প্রতিটি ফুলের দামই বাড়ানো হবে। এর বেশিও হতে পারে। আবার চাহিদা কম থাকলে কমেও যেতে পারে। পুরোটাই চাহিদার উপর নির্ভর করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *