গাংনীতে জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে দুপক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে কৃষক লীগ নেতাসহ আহত ১০

মুজিবনগর নিউজ২৪.কম: মেহেরপুর গাংনী উপজেলার লক্ষœীনারায়ণপুর ধলা গ্রামে দুপুক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উপজেলা কৃষক লীগ সভাপতি আতিয়ার রহমানসহ নয় জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত তিনজকে কুষ্টিয়া মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। পুর্ব বিরোধ ও বাড়ি যাতায়তের পথ নিয়ে সাবেক মেম্বর আতিয়ার রহমান ও বর্তমান মেম্বর আজমাইন হোসেন টুটুল পক্ষের মধ্যে শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে আতিয়ার রহমান (৫৬) ও তার বড় ভাই মহাব্বত আলী (৬৫), চাচাতো ভাই বাসারুল ইসলাম (৫৫), বাসারুলের ভাই সাহারুল ইসলাম (৪০) ও সাহারুলের স্ত্রী মদিনা খাতুন (৩৫)। এদের মধ্যে মহাব্বত আলী, বাসারুল ইসলাম ও মদিনা খাতুনকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের কোপে আশংকাজনক অবস্থায় মহাব্বত ও বাসারুলকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। অপরদিকে আজমাইন হোসেন টুটুল (৪০) ও তার ভাই এনামুল হক ললো (৩৬), ললোর স্ত্রী বিলকিছ খাতুন (২৮) ও মামাতো ভাই জাহারুল ইসলাম (৪৩) আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন টুটুল। আহতরা গাংনী কিংবা মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হননি। গ্রেফতার হওয়ার আশংকায় গোপনে চিকিৎসা নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন টুটুল মেম্বর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাথুলী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড লক্ষিœীনারায়ণপুর ধলা গ্রামের সাবেক মেম্বর ও উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি আতিয়ার রহমান পক্ষের সঙ্গে একই গ্রামের বর্তমান মেম্বর আজমাইন হোসেন টুটুল পক্ষের বিরোধ বেশ কয়েক বছর আগে থেকে। বিবাদমান দুটি পক্ষের মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে কয়েকটি বিষয় নিয়ে টান টান উত্তেজনা চলছিল। এরই সূত্র ধরে শুক্রবার রাতে টুটুল মেম্বরের বাড়ির সামনে দুপক্ষের লোকজনের মধ্যে বাকবিত-তা শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রুপ নেয়। এতেই ঘটে জখমের ঘটনা।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার সৈকত রায় বলেন, প্রথমে হাসপাতালে আসেন মহাব্বত আলী। তার ডান কাধে বড় ধরনের কোপের দাগ রয়েছে। পিঠেও আরেকটি ছোট কোপ রয়েছে। দুটি ক্ষত স্থান থেকে ব্যাপক রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। কাধে অনেকখানি জায়গাজুড়ে ক্ষত হওয়ায় রক্ত বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। দ্রুত তাকে কুষ্টিয়া মেডিকেলে রেফার করা হয়। এর পরে হাসপাতালে আসেন বাসারুল ও মদিনা খাতুন। বাসারুলের ডান কাধ ও মদিনা খাতুনে মাথায় ধারালো অস্ত্রের কোপের ক্ষত দাগ রয়েছে। এদের দুজনকেও কুষ্টিয়া রেফার করা হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই আসেন আতিয়ার রহমান ও সাহারুল। তাদের দুজনের মাথায় লাঠি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এদুজনকে গাংনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কুষ্টিয়া মেডিকেলে মহাব্বত আলীর অপারেশন চলছিল। তার শারীরিক অবস্থা আশাংকাজনক বলে জানিয়েছন স্বপনরা।
কুষ্টিয়া হাসপাতালে অবস্থানরত মহাব্বত আলীর বিয়াই নিয়াজুল ইসলাম বলেন, প্রচুর রক্তক্ষরণের ফলে তার জীবন সকটাপন্ন অবস্থা। কুষ্টিয়া হাসপাতালে রক্ত দেয়া হচ্ছে। আড়াই ঘন্টার উপরে অপারেশন চলছে। অপারেশন থিয়েটর থেকে বের হলে শারীরিক অবস্থা বোঝা যাবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাবেক মেম্বর আতিয়ার রহমানের চাচাতো ভাই সাহারুল ইসলাম তার বাড়ির পাশে আব্দুল মান্নানের চার কাঠা জমি কিনেছেন। ওই জমির আগ্রহী ক্রেতা ছিলেন টুটুল মেম্বর পক্ষের মহির উদ্দীন। জমি ক্রয়ের বিষয়টি নিয়েই মূলত কয়েকদিন ধরে দুপক্ষের বিরোধ চাঙ্গা দিয়ে উঠেছিল। এতেই ঘটে গতকালের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ।
এদিকে সংঘর্ষের খবর পেয়ে গাংনী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনিব বলেন, শান্তিপুর্ণ অবস্থা বজার রাখতে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বর্তমানে গ্রামের পরিবেশ শান্ত রয়েছে। আহতদের পক্ষ থেকে মামলা দিলে আসামি গ্রেফতার করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *