আগুন রাঙা ফাগুন দিনের শুরু

ধূলি-ধূসরিত শহরের বুকে ঘুমকাতুরে ঝিরঝিরে বাতাসের বিচরণআজ। শুকনো পাতার ঝরে পড়ার দিন, সবুজ পাতায় সূর্যের চিকমিক, স্বপ্ন আলোয় আজ বসন্তের গান। আর আছে দূর মগডালে বসে থাকা কোকিলের গান। গাছে গাছে বাহারি ফুলের নতুন মুখ। আজ বসন্ত। আগুন রাঙা সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হলো ফাগুনের দিন। গণমানুষের কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভাষায়: ‘ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক/ আজ বসন্ত…’ এমন মধুর সময়ে প্রকৃতি আর প্রাণের আপন উচ্ছ্বাস আর উৎসবে মেতে ওঠার মাহেন্দ্রক্ষণ এলো।কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ তার বন্দনায় লিখেছেন, ‘আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে।/ তব অবগুণ্ঠিত কুণ্ঠিত জীবনে/ কোরো না বিড়ম্বিত তারে।’

নতুন প্রকৃতির মতোই উজ্জ্বল সাজে সজ্জিত হয়ে পথে নামে পুরবাসী নর-নারী। খুলে যেতে চায় মনের বন্ধ দুয়ার। হৃদয়ের না বলা কথাটি প্রিয়তম কোনো জনের কাছে মধুর স্বরে বলতে আকুল হয়ে ওঠে চিত্ত। হৃদয়ের এ কূল ও কূল দুকূল ভাসানো আবেগের প্লাবনে ঘুচে যায় দ্বিধা-সংকোচ। অনুভূতি পেয়ে যায় তার প্রকাশের ভাষা। বসন্ত তাই ভালোবাসার ঋতু বলেও সমাদর পেয়েছে বাঙালির কাছে।

এই ইটপাথরের কৃত্রিম নগরে বসন্তের লাবণ্যময় স্পর্শ কি লাগে কোথাও? নিসর্গে বসন্তের বর্ণচ্ছটা শহরে তেমন সুলভ নয়। তবে মানবহৃদয় বসন্তের প্রভাব এড়াতে পারে না বলেই হয়তো আজ এই যান্ত্রিক নগরেও দেখা যায় নাগরিকদের বেশভূষায়, উৎসব আয়োজনে ঋতুরাজের আগমনী-উচ্ছ্বাস।

আজ অশোকে-অশ্বত্থে-শিরীষে-শালপাতায় হাওয়ার নাচন, আলোর কাঁপন যখন তখন মাতামাতির দিন এখন। ‘অতি মঞ্জুল, শুনি মঞ্জুল গুঞ্জন কুঞ্জে শুনিরে/ শুনি মর্মর পল্লবপুঞ্জে, পিক কূজন পুষ্পবনে বিজনে, মৃদু বায়ু হিলোলবিলোল বিভোল বিশাল সরোবর-মাঝে কলগীত সুললিত বাজে/ শ্যামল কান্তার-’পরে অনিল সঞ্চারে ধীরে রে, নদীতীরে শরবনে উঠে ধ্বনি সরসর মরমর। কত দিকে কত বাণী, নব নব কত ভাষা, ঝরঝর রসধারা…। ঋতুরাজ বসন্তের দিনগুলো অপার্থিব মায়াবী এক আবেশ ঘিরে রইবে বৃক্ষ, লতা, পাখ-পাখালি আর মানুষকে। এ ফাগুন সুখের মতো এক ব্যথা জাগিয়ে দেবে চিত্তে: ‘এতটুকু ছোঁয়া লাগে, এতটুকু কথা শুনি/তাই দিয়ে মনে মনে রচি মম ফাল্গুনী..। মন রাঙিয়ে গুন গুন করে অনেকেই গেয়ে উঠবেন- ‘মনেতে ফাগুন এলো..’। অথবা ‘পলাশ ফুটেছে, শিমুল ফুটেছে, এসেছে দারুণ মাস…কৃষ্ণচূড়া লাল হয়েছে ফুলে ফুলে, তুমি আসবে বলে..।’ বসন্ত উদযাপনে এরইমধ্যে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। ঢাকার ফুলের দোকানগুলো সেজেছে নতুন নতুন ফুলে। আজ তরুণীদের খোপায় শোভা পাবে বাহারি ফুল।

বসন্ত উদযাপনে প্রস্তুতির কমতি নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *